Header Ads

Header ADS

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার হেতু কারণ।


দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি এক্সামে পাসের হারের দিক থেকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশ ভালো করেছে।

শুধু  নয়, এই শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যানে নোটিশ গেছে, গত ৭ বছরেই ছেলেদের পিছনে ফেলে এগিয়ে বিদ্যমান মেয়েরা।

ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার মূল কারণসমূহ:-

  • মুঠোফোন 
  • ইন্টারনেট 
  • অনলাইন এর অপব্যবহার
  • ফেসবুক এবং
  •  ইউটিউব।

ছেলেদের এই পিছনে পড়ে যাওয়ার পেছনে ছেলেদের বহির্মুখী মনোভাব এবং মুঠো ফোন ফোন ও ইন্টারনেট এর অপব্যবহারকেই দুষছেন শিক্ষাবিদরা।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের গত ১৭ জুলাই ঘোষিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে, এই বোর্ডের অধীনে এই যাত্রায় মেয়েদের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

শুধু  নয় ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত গত ৭ বছরেই মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে ছেলেদের তুলনায়।

এর মধ্যে গত ২০১৮ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ তার সাথে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ২২ শতাংশ। ২০১৭ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

২০১৬ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ২৩ শতাংশ, আর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

২০১৪ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, আর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০১৩ বর্ষের এইচএসসি পরীক্ষায় এই বোর্ডের অধীনে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, আর ছেলেদের পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।

নানান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ছেলেদের তুলনায় পড়াশুনায় মেয়েরা সুন্দর করার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে দিনাজপুরের শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা।

তারা বলছেন, সোশ্যাল অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েরা সুন্দর করছে এটি একটা ভালো দিক। কিন্তু মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এগিয়ে থাকার কথা থাকলেও তারা পিছিয়ে পড়ছে-এটা কোনোভাবেই অনেক ভালো দিক নয়।

এজন্য ছেলেদের বহির্মুখী মনোভাব তার সাথে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট-এর অপব্যবহারকেই দায়ী করছেন তারা। তারা বলছেন, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পড়াশোনার সুযোগ বেশি। অথচ এরপরও মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা পিছিয়ে থাকছে।

মাদকসহ নানারকম অসামাজিক ক্রিয়াকলাপের প্রসার লাভের যুগে এটি নিশ্চয়ই শংকার। এ জন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তারা।

দিনাজপুর সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ ও সমাজকর্মী ড. মারুফা বেগম বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে-এটা অধিক আনন্দের ব্যাপার। মেয়েদেরকে যতটা যন্ত্রণা করে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে হয়, ছেলেদেরকে জন্মগতভাবেই তার চেয়ে অনেক কম দুঃখ করতে হয়।

তিনি বলেন, মেয়েরা এই কষ্টটা করছে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। অধুনা মেয়েদের যে অগ্রগতি, তাতে মেয়েদের চেষ্টাটাই অতি গুরুত্বপূর্ণ।

ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ড. মারুফা বেগম বলেন, ইদানিংকালে ছেলেদের বাড়ির বহির্মুখী মনোভাবটাই বহু দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মেয়েরা বাড়িতে থেকে অতিশয় মনযোগের সঙ্গে পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষকদের আদেশ-উপদেশ সঠিকভাবে মেনে চলছে।

ছেলেরা খারাপ না করলেও মেয়েদের তুলনায় খারাপ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রদের অমনযোগের জায়গাটা অধিক তার সাথে আধুনিক যে সোশাল পরিস্থিতিতে মোবাইলফোনের কালচারটা ছেলেদের ভিতরে প্রচুর বেশি। এটিও ছেলেদের পিছিয়ে থাকার কারণ।

মহিলা পরিষদের এই নেত্রী বলেন, যন্ত্রণা করে এগিয়ে যাওয়ার যে ফল, এইচএসসি এক্সামের ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে যাওয়ার এটাই একটা প্রমাণ।

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ দিনাজপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের কর্মী অধ্যাপক ড. মাসুদুল হক বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সুচকে মানবীর ভুমিকা সম্প্রতি অগ্রগন্য। সরকারী কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, সেনা-কর্মকর্তাসহ নানারকম ক্ষেত্রে আজকাল নারীরা অবস্থান করে নিয়েছে, এর পিছনেই আছে শিক্ষা। নারীরা প্রচুর মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছে বলেই তারা বেশ ভালো করছে।

তিনি বলেন, নারীরা গ্রামাঞ্চলে মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে পড়াশোনা করছে। এতেই বোঝা যায়, তাদের অনেক ভালো করার চেষ্টা রয়েছে।

ছেলেদের পেছনে পড়ার কারণ হিসেবে অনলাইনের অপব্যবহারকেও দায়ি করেন ড. মাসুদুল হক। তিনি বলেন, ইন্টারনেটের চান্স নিয়ে ছেলেরা ভালো না দিকটা গ্রহণ করে সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মেয়েরা অনলাইনের চান্স নিয়ে পজেটিভ দিকটা গ্রহণ করে শিক্ষায় কাজে লাগাচ্ছে।

এসব কারণেই মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক ভালো করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

‘তোমরা আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও-আমি তোমাদের একটা চমৎকার জাতি ও রাষ্ট্র পুরস্কার দেবো’ আলেকজান্ডারের এই বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ড. মাসুদুল হক বলেন, মেয়েরা অনেক ভালো করছে- এটি অবশ্যই আমাদের জন্য বেশ ভালো তার সাথে আমরা মনে হয় সেই দিকেই এগুচ্ছি। একসাথে ছেলেরা পিছিয়ে পড়ার বিষয়টিকে তিনি আমলে নিয়ে এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.