Header Ads

Header ADS

৬৫ পেরিয়েও যৌন জীবন চনমনে রাখবেন কিভাবে ?

শরীর এবং সেক্স, এই দুইটা কথায় যদি ছুঁৎমার্গ থাকে, তাহলে বলে রাখা ভাল মনের সাথে দেহের নির্ভুল মিলমিশ হলেই সুস্থ ও অনেক ভালো বিবাহিত জীবনের বুনিয়াদ সৃষ্টি হয়। সম্পর্কের রসায়ন এইখানে আলোচ্য বিষয় নয়, যৌনতার পাঠ পড়ানোও উদ্দেশ্যও নয়, কিন্তু সঙ্গমের সঙ্গে সুস্থ শরীরের যে অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক বিদ্যমান সেটি একবাক্যে স্বীকার করেছেন ডাক্তার থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তের বিজ্ঞানীরা। দেহ ছুঁয়ে ভালবাসায় যদি তিক্ততা জন্মায় সে শারীরিক অক্ষমতার কারণেই হোক বা মানসিক জটিলতা, তাহলে ছাপ পড়ে সম্পর্কে, নয়, অবসাদ গ্রাস করে মনকেও। ফলে, হৃদরোগ, মাইগ্রেন, ইনসমনিয়া থেকে ক্রনিক রোগ বাড়ি বাঁধতে পারে শরীরে।

পেজ সূচি ঃ

  • ওষুধে নয়, যৌন সমস্যা মিটবে ব্যায়ামে
  • কোমরের মাপে স্মৃতি রাখুন, মেদ বাড়লেই বিপদ
  • সুস্থ থাক হার্ট
  • টেস্টোস্টেরনের সমস্যা
  • ভাল থাকুক মন

আসল সমস্যা চালু হয় ৫০ লঙ্ঘন হওয়ার পর থেকে। শারীরিক মিলনে অনীহা জন্মায়, শারীরিক অসুস্থতা বা কোনও রোগের জটিলতাও এর কারণ। পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের সমস্যা, ইরেকটাইল ডিসফাংশন নানা রোগ লক্ষ্য দিতে থাকে। হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরও সমস্যা সৃষ্টি করে। মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যের তারতম্য তার সাথে মেনোপজের পরের সময়ে শারীরিক নানা সংশোধন সমস্যা প্রস্তুত করার জন্য পারে।  হরমোন থেরাপির মাধ্যমে দেহে হরমোনের যোগাড় বজায় রাখা এবং ফের ঋতুস্রাব আরম্ভ করা সম্ভব। যৌবন ধরে রাখতে এবং পার্টনারকে সন্তুষ্ট রাখতে অনেকেই এই থেরাপি করে থাকেন। অনেকাংশেই যার ফল হয় মারাত্মক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাডসের চমকে ভুলে কোনও রকম কঠোর থেরাপি বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তির উপদেশ না নিয়ে বিশেষজ্ঞের কাছে কাউন্সেলিং করালে ফল মেলে। কয়েকটি উপায় রয়েছে যেগুলো মেনে চললে ৫০ পেরনোর পরেও দেহে ও মনে চনমনে থাকা যায়। সঙ্গীকেও সুখী রাখা যায়, সন্তুষ্ট ও সুস্থ সম্পর্কও বজায় থাকে।

ওষুধে নয়, যৌন সমস্যা মিটবে ব্যায়ামে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে ইরেকটাইল ডিসফাংশনে (Erectile Dysfunction) ভুগছেন অসংখ্য পুরুষ। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে এই প্রবলেম নোটিশ দেয় অনেকেরই। যোগ্য সমাধানের জন্য কেউ সাহস করে সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আনেন, কেউ আবার পুরুষত্বে চোট লাগার আশঙ্কায় মুখ বুজে বাজার রানিং নানা পিলের উপর ভরসা রাখেন।  ইরেকটাইল ডিসফাংশন শুধু যৌনজীবনকে ব্যাহত করে একারণে নয়, আবির্ভাব দেয় মারাত্মক মানসিক সমস্যার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওষুধে নয়, এই প্রবলেম মিটবে ব্যায়ামে। সিডেনাফিলের (যার ব্র্যান্ড নাম ভায়গ্রা) থেকেও অধিক কার্যকর তার সাথে নিরাপদ উপায় ব্যায়াম। সপ্তাহে চার দিন মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যায়াম (কার্ডিও বা অ্যারোবিক) প্রবলেম থেকে রেহাই দিতে পারে অচিরেই।

আরো পড়ুন : ২৪ ঘন্টা শরীরকে চাঙ্গা রাখতে যে ৪টি ব্যায়ম করা উচিত

কোমরের মাপে স্মৃতি রাখুন, মেদ বাড়লেই বিপদ

অনিয়মিত ডায়েট, শরীরচর্চার অভাবে চল্লিশের পর থেকেই রক্তচাপ টালমাটাল। তার উপরে সুগার, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল হাজারো সমস্যা। পঞ্চাশ অতিক্রম হওয়া গৃহবধূ হোক বা অফিসে চাকরি করা মহিলা, দেহের স্মরণ রাখেন না কেউই। পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। এক্সারসাইজ করতে অনীহা অনেকেরই। তার উপরে তেল-মশলাদার খাবার, প্যাকেটফুড খাওয়ার মমতা অনেকটাই বেড়েছে। যার কারণে মেদও বাড়ছে চড়চড় করে। ওবেসিটির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। আর স্থূলত্ব থেকেই বাড়ি বাঁধছে একাধিক রোগ। গ্রাস করছে মানসিক অবসাদ। শারীরিক মিলনে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সেরা কারণ।

সুস্থ থাক হার্ট

নিয়মিত সঙ্গম এবং পার্টনারের সঙ্গে সুস্থ যৌন রিলেশন অনেক ভালো রাখে হার্ট।  ‘আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওলজি’তে এই ব্যপারে গবেষণার রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল।  হার্ট সার্জারির পরবর্তী রুটিন জীবনকে সুরে ফেরাতে নিয়মিত সঙ্গমের উপদেশ দেন চিকিৎসকরাই। তা সত্ত্বেও যদি হার্টই বিগড়ে যায়, তাহলে ভালবাসার সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে বিশেষ ভাবে হার্টের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। প্রয়োজনে নানাদিকে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কার্ডিওভাস্কুলার রোগ একবার দেহে হানা দিলে তার ফল থেকে পারে মারাত্মক।

আরো পড়ুন : বিছানায় যাওয়ার আগে যা খেলে ২৫ বছরের যুবকের মতন  খেলোয়াড় হয়ে যাবেন 

টেস্টোস্টেরনের সমস্যা

শুক্রাণু সৃষ্টি হতে শুরু করে যৌন উত্তেজনা, পুরুষের শরীরে সবটাই নিয়ন্ত্রম করে টেস্টোস্টেরন হরমোন। পুরুষ দেহে টেস্টিস থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ হয়। গবেষণা বলছে, দেহে এই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের হতে কমে যায় গেলেই নানা সমস্যা চালু হয়। সঙ্গমে অনীহা সৃষ্টি হয়, মানসিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ে। আবার এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। একারণে হরমোনের ভারসাম্য রাখা দরকার। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেই প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (পিএসএ) টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রস্রাবে বাধা, রক্ত, কোমরে ব্যাথা হলেও এড়িয়ে যাওয়া কর্তব্য নয়। সুষম খাবার, রেগুলার হাঁটা, যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম এর থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য পারে।

সেই সাথে ধূমপান ও মদ্যপানও এড়িয়ে চলা উচিত। ধূমপায়ীদের বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।

আরো পড়ুন :ঘরে বসে কিভাবে সিক্স প্যাক বডি বিল্ড করবেন। 

ভাল থাকুক মন

ভালবাসায় শরীরী শিহরণ তখনই জাগবে, যখন মনের মিল হবে। মন সুখী থাকলে সব ভাল, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মানসিক অবসাদ, এক্সট্রা স্ট্রেস, উৎকণ্ঠার ছাপ পড়ে সম্পর্কেও। এইজন্য সর্বাপেক্ষা আগে মন ঠিক রাখা দরকার। তার জন্য সঙ্গীকে টাইম দেওয়া, তার সঙ্গে একান্তে বসে আলোচনা, কাজের ফাঁকেও সময় কাটানো—ম্যাজিকের মতো কাজ করে। দু’তরফেই প্রবলেম শুনে যদি তার সমাধান বের করা যায় তাহলেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একে অপরকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। একান্তই নিজেরা না পারলে কাউন্সেলিং করানো দরকার। মানসিক স্থিতি নড়বড়ে হয়ে গেলে সুখের বাড়ি তাসের কক্ষের মতো ভেঙে পড়তে বিলম্ব হবে না


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.