Header Ads

Header ADS

স্লিম হওয়ার ১০ টি সহজ ও কার্যকারী টিপস

মোটা স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগা মানুষের অভাব নেই আমাদের আশাপাশে। হতে পারে আপনি ছোটবেলা থেকেই মোটা অন্যথায় সহসা শরীর বেড়ে গেছে। তবুও এর জন্য যতটা না আপনি শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তার চেয়ে কয়েক গুণ বহু থেকে হচ্ছে মানসিকভাবে। বেশিরভাগ মানুষই পাতলা হওয়ার উপায় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। আবার অধিকাংশই মনে করেন, না খেয়ে থাকলেই চিকন হওয়া যায়। কিন্তু এই ধারনাটি সম্পুর্ন ভুল।

পেস সূচিপত্র.

  • আপনার BMR জেনে নিন
  • নির্ভুল সময়ে ব্রেকফাস্ট 
  • ওয়েট লস ডায়েট পরিকল্পনা সৃষ্টি 
  • চিকন থেকে ব্যায়াম 
  • খাদ্যতালিকা
  • ফাস্টফুড এবং নমনীয় পানীয় পরিহার 
  • অনেক পরিমাণ জল পান
  • রাতের অন্ন ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে
  • প্রচুর ঘুম
  • চিন্তামুক্ত রাখা

ভুলভাল নিয়মে চিকন হতে গেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই অধিক হয়ে থাকে। তাই ঠিক নিয়মে ওজন কমিয়ে পাতলা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আজকে আমরা এরূপ ১০টি পাতলা হওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনাকে আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে হেল্প করবে। চলুন জেনে নেই...

সহজে চিকন হওয়ার উপায় গুলো কি কি?

চিকন শরীরের অধিকারী হওয়ার জন্য শুরুতে আপনাকে জেনে নিতে হবে আপনার মোটা হওয়ার কারণগুলো কি কি? প্রধারনত আমাদের স্বাস্থ্য মোটা তার সাথে পাতলা হওয়া অবলম্বন করে আমাদের খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর। মোটা হয়ে যাওয়ার প্রচুর ধরনের কারণ থাকতে পারে। উদাহরণসরূপ সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মেনে চলা, অনেক সংখ্যা ঘুমের ঘাটতি, কোন রোগ পক্ষান্তরে ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি।

এসব বিপদের কারণে নোটিশ যায় অনেক চেষ্টার পরও অধিকাংশই চিকন হতে পারেন না। কিংবা একবার ওজন কমিয়ে চিকন হয়ে কয়েকদিন পর আবার পূর্বের ওজনেই ফিরে যাচ্ছেন। আপনি যদি পাতলা হতে সঠিক এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে গুলো মেনে চলেন তবে পুনরায় আবার আগের ওজনের ফিরে যাওয়ার সুযোগ কম থাকবে। তাহলে চিকন হওয়ার জন্য আপনাকে যা যা মেনে চলতে হবেঃ

১. আপনার BMR জেনে নিন

চিকন হতে নিশ্চয়ই আপনাকে আপনার BMR( Basal metabolism ratio) জেনে নিতে হবে। সরল ভাষায় বলতে গেলে বিএমআই আমাদের ওজন, উচ্চতা, দৈনিক কাজের মেজারমেন্ট পরিমাপ করে বলে দেয় আমাদের শরীরের ক্যালরি চাহিদা কত। গুগলে বিএমআর ক্যালকুলেটর পেয়ে যাবেন যেখান হতে BMR মেজারমেন্ট করে নিতে পারবেন। পাতলা হওয়ার জন্য আপনাকে আপনার দেহের চাহিদার তুলনায় ১৫% কম ক্যালোরি গ্রহণ করার জন্য হবে। এবং ধীরে ধীরে ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ এর চাইতেও কমিয়ে আনতে হবে। একবারে বেশি হিসাবে ক্যালোরি কমিয়ে ফেলতে যাবেন না এতে আপনার ফ্যাটলস না হয়ে মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২. নির্ভুল সময়ে ব্রেকফাস্ট করুন

অনেকেই সকাল বেলা বেলার ব্রেকফাস্ট করা বাদ দিয়ে দেন চিকন হওয়ার আশায়। তবুও এটা যে আপনার শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকারক তা হয়তো আপনি সঙ্গে সাথে বুঝবেন না। এতে সাময়িক ভাবে আপনার দেহ থেকে কিছুটা ওজন ঝরলেও তা পুনরায় আবার ফিরে প্রবল বৃষ্টিপাত সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ সকাল বেলার খাবারটা আমাদের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। আপনার মেটাবলিজম নির্ভুল থাকে তাহলে আহার ফাস্ট হজম হবে তার সাথে ওজন কমাতে হেল্প করবে। একারণে সকাল আটটা হতে নটার মাঝে আপনার ব্রেকফাস্ট শেষ করুন।

৩. ওয়েট লস ডায়েট পরিকল্পনা সৃষ্টি করুন

চিকন হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ধরনের ওয়েট লস ডায়েট পরিকল্পনা রয়েছে। আপনার দেহের আকৃতি অনুযায়ী কি ধরনের ডায়েট আপনি ফলো করার জন্য পারেন তা অবশ্যই একজন ডায়েটিশিয়ান এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিবেন। এছাড়া কামরায় বসেও আপনি নিজেও বের করে ফেলতে পারেন কোন ডায়েট প্ল্যানটি আপনার জন্য নির্ভুল হবে। আপনার বিএমআর অনুযায়ী ক্যালরি হিসাব করে নিয়ে আপনার ডায়েট প্ল্যান পছন্দ করে নিতে পারবেন। এখানে কিছু চলমান ডায়েট প্ল্যানের লিস্ট দিচ্ছিঃ

·        কিটো ডায়েট

·        লো-কার্ব

·        ক্রাশ ডায়েট

·        জিএম ডায়েট

·        ইন্টারমিডিয়েট ফাস্টিং

বর্তমানে এই ডায়েট প্ল্যান গুলো চিকন হওয়ার জন্য প্রচুর জনপ্রিয়।

৪. চিকন থেকে ব্যায়াম করুন

বলা হয়ে থাকে পাতলা এবং আকর্ষণীয় শারীরিক আকার পেতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। ব্যায়ামের সময় আমাদের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্যাট নির্গত হয়ে যায়। ডেইলি ১টি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করার ফলে কম সময়ে পাতলা তার সাথে আকর্ষনীয় শারীরিক গড়ন সৃষ্টি করা যায়। ব্যায়াম করার অনুকরণীয় সময় হচ্ছে সকাল বেলা এবং বিকেলে। সারা দিনে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হতে এক ঘণ্টা ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাতলা হওয়ার জন্য কতিপয় কার্যকরী ব্যায়াম হচ্ছে হাটা, দৌড়ানো, জগিং, সাঁতার কাটা, সাইকেলিং, ওয়েট লিফ্টিং ইত্যাদি। এছাড়া কামরায় বসেই আপনি আরো কয়েকটি ব্যায়াম করতে পারেন যেমনঃ

·        যোগব্যায়াম

·        কার্ডিও

·        এ্যারোবিক্স

·        রেজিসটেন্স

·        জুম্বা

আরো পড়ুন 

৫. খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে আমিষ অধিক রাখুন

কার্বোহাইড্রেট আমাদের ওজন বৃদ্ধি করে মোটা করে ফেলে। তাই যতটা সম্ভব খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম রাখুন এবং প্রোটিনের সংখ্যা তুলনামূলক বহু রাখুন। উদাহরণসরূপ ভাত, আলু, রুটি এগুলোর পরিবর্তে মাছ, ডিম, মুরগির মাংস এসব খাবার গ্রহণ করুন। রেডমিট অর্থাৎ  তার সাথে খাসির মাংস যতটা পারবেন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। গো তার সাথে খাসির মাংসের চেয়ে মুরগির মাংসে চর্বির পরিমাণ কম থাকে। প্রোটিনযুক্ত আহার আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিয়ে থাকে। বিপরীতে কার্বোহাইড্রেট আমাদের মাংসপেশি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এইজন্য চিকন হওয়ার হতে চাইলে কার্বোহাইড্রেট পরিহার করাই ভালো।

৬. ফাস্টফুড এবং নমনীয় পানীয় পরিহার করুন

আপনার মোটা হওয়ার অন্যতম রিজন তবুও ফাস্টফুড তার সাথে কোমলপানীয়। এসব অন্ন খেতে সুন্দর লাগলেও এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। আর পাতলা থেকে চাইলে এসব আহার অবশ্যই পরিহার করার জন্য হবে। ফাস্টফুড তৈরিতে ফ্যাট জাতীয় উপকরন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবং কোমল পানীয়তে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড। এসব অন্ন দীর্ঘদিন খেলে ওবিসিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস তার সাথে আরো অনেক রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৭. অনেক পরিমাণ জল পান করুন

আমি বলবো, প্রচুর হিসাব পানি পান করা আপনার চিকন হওয়ার জন্য ১টি জাদুকরি উপায়। দৈনিক ৮-১২ গ্লাস জল পান করলে আপনার দেহ হতে ক্ষতিকর ফ্যাট এবং রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়ে যায়। এতে আমাদের শরীর হাইড্রেট থাকে তার সাথে চর্বি জমা না হয়ে দ্রবীভূত হয়ে যায়। জল আমাদের মেটাবলিজম বাড়াতে সহযোগিতা করে। প্রত্যেক বেলা খাবারের আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলে খাবারের চাহিদাও হ্রাস পায় আসে।

৮. রাতের অন্ন ঘুমানোর দুই ঘন্টা প্রথমে শেষ করুন

চিকন হওয়ার ক্ষেত্রে রাতের খাবারটা ঠিক সময়ে শেষ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাতের অন্ন সম্পন্ন করার পরপরই আমরা ঘুমোতে চলে যাই। এর ফলে সেই খাবারের পুরোটাই আমাদের শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়ে থাকে। এইজন্য রাত্রিতে ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে আহার খেয়ে নেওয়া উচিত। এতে ঘুমানোর আগে সেই খাবারের ক্যালরি আমরা কাজের সাহায্যে খরচ করে ফেলতে পারি।

৯. প্রচুর ঘুম

চিকন হওয়ার জন্য সঠিক সময়ে মেনে ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুমের সময় আমাদের শারীরিক ঘাটতিগুলো পূরণ হয়ে যায় তার সাথে ঘুম থেকে আমরা সারাদিন কাজ করার শক্তি পেয়ে থাকি। দৈনিক সাত হতে আট ঘণ্টা নিদ্রা আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য। রাত দশটা হতে এগারটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ার ট্রাই করুন। দিনের বেলা না ঘুমানোই ভালো। বিশেষ করে দুপুরের অন্ন সম্পন্ন করে ঘুমাতে যাবেন না, এতে খাবারটি আমাদের শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা থাকে।

১০. নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখুন

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পাতলা হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করার জন্য পারে। একারণে যতটা পারবেন নিজেকে ভাবনা মুক্ত রাখার ট্রাই করবেন। বেশি মাত্রায় চিন্তার কারণে আমাদের পরিপাক ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে খাবার হজমে সমস্যা লক্ষ্য দিতে পারে। ফলে আহার গুলো শক্তিতে রূপান্তরিত না হয়ে আমাদের শরীরে ফ্যাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। চিকন হতে চাইলে এই ব্যপারগুলো নিশ্চয়ই আপনাকে মাথায় রাখার জন্য হবে।

পরিশেষ

মনে রাখবেন পাতলা হওয়ার জন্য আপনাকে সময় নিয়ে এবং  ধরে ট্রাই করে যেতে হবে। ফাস্ট পাতলা হওয়ার চেষ্টা না করে স্বাস্থ্যকর উপায়গুলো মেনে চলবেন। আপনি যেহেতু একদিনে মোটা হননি, তাই একদিনেই চিকন হওয়াটাও পসিবল নয়।

এই ছিলো পাতলা হওয়ার উপায় নিয়ে আজকের আর্টিকেল। প্রার্থনা করি আজকের উপায়গুলো আপনাদের কাজে আসবে। এইজন্য  ধরে চেষ্টা করুন তার সাথে কমেন্টবক্সে আমাদের জানান আপনার প্রতিক্রিয়া।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.