Header Ads

Header ADS

বিজ্ঞান বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যদান

বিজ্ঞান বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যদান


শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, চিড়িয়াখানা-বোটানিক্যাল গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা

জীবনের জন্য পানি

প্রশ্ন : জীবের কেন পানি প্রয়োজন?

উত্তর : জানোয়ার বলতে বৃক্ষ ও প্রাণীকে বোঝায়। প্রত্যেক জীবের বেঁচে থাকার জন্য জল প্রয়োজন।

উদ্ভিদ : * উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানি প্রয়োজন। * বৃক্ষের শরীরের প্রায় ৯০ ভাগই পানি। * উদ্ভিদ খাবার তৈরিতে পানি প্রয়োগ করে। * মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান কালেক্ট করার জন্য জল প্রয়োজন। * সংগৃহীত পুষ্টি উপাদান ও তৈরিকৃত খাদ্য বৃক্ষের বিভিন্ন অংশে পরিবহণ করতে গাছের পানি প্রয়োজন। * জল ব্যতীত তরু মাটি হতে খনিজ উপাদান শোষণ করতে পারে না। * অতিশয় গরমে জল উদ্ভিদের শরীর শীতল করতে সাহায্য করে।

পেজ সূচিপত্র ঃ

প্রাণী : * বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীদেরও জল প্রয়োজন।

* মানবদেহের আকৃতি উপাদানের মধ্যে ৬০-৭০ ভাগ পানি। * অর্ধেকের বেশি পানি পান না করে ঈষৎ কিছু দিন বাঁচতে পারে মাত্র। * দেহের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি উপাদান পরিবহণে সাহায্য করে। * আহার হজমে বা পরিপাকে পানি প্রয়োজন। * শরীরে পুষ্টি উপাদান শোষণে পানি প্রয়োজন। * জন্তু শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য পানি প্রয়োজন।

* প্রাণীরা পিপাসা নিবারণে পানি প্রয়োগ করে।

মোট কথা, জীবের বেঁচে থাকাসহ নানা জৈবিক কাজে পানির কোনো বিকল্প নেই। তাই পানির অপর নাম জীবন।

প্রশ্ন : বাতাসে যে জলীয়বাষ্প বিদ্যমান তা কীভাবে বোঝা যায়? বায়ুতে জল রয়েছে তা আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি?

উত্তর : এক্সামের নাম : বায়ুতে পানি জলীয়বাষ্প রয়েছে তা এক্সামের মাধ্যমে দেখাতে হবে।

মূলনীতি : জলীয়বাষ্প হলো পানির বায়বীয় অবস্থা। জলীয়বাষ্প ঠান্ডা পেলে জমে পানি অর্থাৎ তরল পদার্থে পরিণত হয়।

উপকরণ : * ১টি গ্লাস * অল্পসংখ্যক টুকরা বরফ

* একটি সুতির কাপড়

কার্যধারা : প্রথমে ১টি গ্লাসে  টুকরা বরফ রাখা হলো।

পর্যবেক্ষণ : * ১৫/২০ মিনিট লক্ষ করলে দেখা যাবে, গ্লাসের গায়ে বিন্দু বিন্দু জল জমেছে। বাতাসের জলীয়বাষ্প গ্লাসের গায়ে লেগে ঠান্ডা হয়। বাষ্প ঠান্ডা পেলে পানিকণায় রুপান্তর হয়। * সুতির কাপড় দিয়ে গ্লাসটির চারদিক দূর দেওয়া হলো। লক্ষ করলে লক্ষ্য যাবে, গ্লাসটির বাইরে আবারও সেইম কারণে পানি জমা হয়েছে।

ফলাফল : ওপরের পরীক্ষা হতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, হাওয়ায় পানি (জলীয়বাষ্প) আছে।

প্রশ্ন : জলাশয়ের পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে হলে কীভাবে শোধন করতে হবে? পুকুরের পানি হতে আমরা কীভাবে নিরাপদ পানি পেতে পারি?

উত্তর : পানি শোধন : সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের নিরাপদ জল পান ও ব্যবহার করার জন্য হবে। এজন্য নদীর পানিকে পান বা ব্যবহার করার আগে শোধন করে নিতে হয়। বিভিন্ন উপায়ে পানিকে শোধন করা যায়। পাদদেশে এ উপায়গুলো ব্যাখা করা হলো।

ছাঁকন : পুকুর, খাল-বিল ও নদীর পানিতে কাদা ও পঁচা মিশে থাকে। পাতলা কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে এ পানি ক্লিয়ার করা যায়। তবে পরিষ্কার হলেও এভাবে জল জীবাণুমুক্ত হয় না। এখনকার দিনে শহরের পর্যাপ্ত বাড়িতে উন্নতমানের ছাঁকনযন্ত্র বা ফিল্টার রয়েছে। এ ধরনের ফিল্টার দ্বারা পানিকে বেশিরভাগ জীবাণু হতে মুক্ত করা যায়। তবে কোনো কোনো জীবাণু রয়ে যেতে পারে। পানিকে পুরোপুরি নিরাপদ করতে হলে পানিকে ফুটাতে হবে।

থিতানো : দরিয়া বা পুকুরের পানি কোনো কলস বা পাত্রে রেখে দিতে হবে। দেখবে পাত্রের তলায় তলানি জমেছে। এতে করে ওপরের ভাগের জল পরিষ্কার হয়ে গেছে। তলানি জমে যাওয়ার পর কলস বা পাত্রটি নগণ্য কাত করে ওপরের জল ঢেলে নাও। এভাবে ক্লিয়ার পানি আলাদা করার পদ্ধতিকে থিতানো বলে। পাত্রের পানিতে ঈষৎ ফিটকিরি দিলে তাড়াতাড়ি তলানি জমে তার সাথে জল কিছুটা জীবাণুমুক্ত হয়।

ফুটানো : পুকুর, তটিনী বা ট্যাপের জল সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করার জন্য চাইলে পানিকে ফুটাতে হবে। পানি ফুটতে চালু করার পর এইরকম ২০ মিনিট তাপ দিলে পানিতে থাকা জীবাণু মারা যায়। এরপর পানি ঠান্ডা করে ছেঁকে নিলে তা পান করার জন্য নিরাপদ হয়।

রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে জল বিশুদ্ধকরণ : পর্যাপ্ত টাইম বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের কারণে জল ফুটানো পসিবল হয় না। তখন ফিটকিরি, ব্লিচিং পাউডার, হ্যালোজেন ট্যাবলেট প্রভৃতি পরিমাণমতো মিশিয়ে পানিকে জীবাণুমুক্ত করা হয়।

সুতরাং, ঊর্ধ্বের পদ্ধতিতে আমরা জলাশয়ের জল থেকে নিরাপদ জল পেতে পারি।

আরো পড়ুন : 

প্রশ্ন : ঠান্ডা পানির গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা পানির কণা তার সাথে শিশির কেন একই রকম?

উত্তর : রাতেরবেলা ঘাস, গাছপালা ইত্যাদির ওপর যে বিন্দু বিন্দু জল জমে তাকে শিশির বলে। বায়ু যখন ঠান্ডা কোনো বস্তুর সংস্পর্শে আসে, তখন বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পানির ফোঁটা পরিমাণে জমা হয়। হাওয়ার জলীয়বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। বাষ্প হতে তরলে পরিণত হওয়াকে ঘনীভবন বলে। শীতকালে পরিবেশের তাপমাত্রা গরমকালের চেয়ে কম থাকে। রাতেরবেলা  বা কম তাপমাত্রার কারণে হাওয়ার জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ঘনীভবন নিয়মে শিশির সংখ্যায় জল কণায় পরিণত হয়।

অপরদিকে গ্লাসে হিম রাখলে গ্লাসটি বরফের সংস্পর্শে ঠান্ডা হয়। এ ঠান্ডা গ্লাসের সংস্পর্শে বাতাসের জলীয়বাষ্প এলে তবুও শিশিরের মতো ঘনীভবন প্রক্রিয়ায় ঘনীভূত হয়ে জল কণায় পরিণত হয়। জল কণা দ্বারা গ্লাসটি স্যাঁতসেঁতে যায়।

সুতরাং, ঠান্ডা পানির গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা পানির কণা তার সাথে শিশির কণা উভয়েই ঘনীভবনের ফলে হাওয়ার জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানি কণায় পরিণত হয়েছে। শিশির তার সাথে ঠান্ডা গ্লাসের বাইরের জল কণা উভয়েই বায়ুর জলীয়বাষ্প। এজন্য এরা একই রকম।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.