Header Ads

Header ADS

স্বামীর কি করনীয় স্ত্রী অবাধ্য হলে? ইসলামিক মতামত কি?


সন্তুষ্ট দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মিল-মহব্বতের বিকল্প নেই। সংসার জীবনে কোনো পত্নী যদি স্বামীর অবাধ্য হয়, তবে সেক্ষেত্রে স্বামীর জন্য রয়েছে বেশ কিছু করণীয়। কুরআনুল কারিমে এ ক্ষেত্রে স্বামীর জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কী সেসব দিকনির্দেশনা?

হ্যাঁ, স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে সংশোধন করা। সংশোধনের চেষ্টা করা। যদি কোনো কারণে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য হয় বা তার আধিপত্য সংগ্রহ না করে; বরং যথেচ্ছাচারী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যায়; তবে জামাইয়ের দায়িত্ব হলো তাকে সংশোধনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

অবাধ্য স্ত্রীকে সংশোধনে স্বামীর প্রতি কুরআনের নির্দেশ

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে অবাধ্য স্ত্রীদের বিষয়ে কর্তব্য তুলে ধরে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। স্রষ্টা তাআলা বলেন-

‘আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর; তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ছেড়ে কর এবং আঘাত কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো রাস্তা খোজ করো না। নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তা সবার উপর শ্রেষ্ঠ।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৪)

> প্রথম স্টেপ : পরামর্শ দেয়া

স্ত্রীর অবাধ্যতা দেখলেই কোনো স্বামীরই উচিত নয় যে, তার বিষয়ে উত্তেজিত হয়ে যাওয়া। বরং নিজেকে সংযত রেখে স্ত্রীকে মিষ্টি ল্যাংগুয়েজে বোঝানোর চেষ্টা করা পক্ষান্তরে উপদেশ দেয়ার কথাই কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করা হয়েছে।

কোনো কারণে স্ত্রী দোষ ধারণায় থাকে তাহলে যথাসম্ভব তা দূর করার ট্রাই করা। স্বামী নিজেকে সংযত রাখার একসাথে স্ত্রীর অন্যায়গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা। তাদের অন্যায় আচরণে ডিস্কাউন্ট দেয়া তার সাথে মায়া-মমতার মাধ্যমে যত দূর সম্ভব দাম্পত্য জীবন স্থায়ী করার আপ্রাণ চেষ্টা করা।

> দ্বিতীয় স্টেপ : শয্যা ছেড়ে করা

উপদেশ দেয়ার পরও যদি গৃহিণী তার স্বামীর অবাধ্য থাকে তবে স্ত্রীর সঙ্গে রাগ-অনুরাগ, অভিমান প্রকাশ করার জন্য শয্যাত্যাগ করা। স্বামী-স্ত্রী একাধার একত্রে রাতযাপন থেকে বিরত থাকা। স্ত্রীর ঘুমানোর জায়গা পৃথক করে দেবে।

স্ত্রী যদি এতেই সতর্ক হয়ে যায় তার সাথে নিজেকে সংস্কার করে নেয়, তাহলে দাম্পত্য জীবন সুখের হবে। সৃষ্টিকর্তা বলেন, ‘স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা বর্জন কর।’

> তৃতীয় পদক্ষেপ : নিপুণ আঘাত করা

স্ত্রী যদি পরামর্শ ও শয্যা ত্যাগের সাহায্যে সংস্কার না হয় তবে তাদের প্রহার নির্দেশনা এসেছে কুরআনে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্ত্রীদের ভিতরে যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা বর্জন কর। অতঃপর তাদের ঈষৎ ঘা কর।’

মুজামে তাবরানিতে এসেছে- ‘এমনভাবে পাতলা প্রহার করবে, যাতে দেহে কোনো যখম বা ক্ষত না হয় তার সাথে মুখে ও লজ্জাস্থানে  প্রহার করবে না।’

এখানে চোট বলতে হালকা প্রহারের কথা বলা হয়েছে। যাতে দেহে কোনো ধরনের জখম বা আঘাতের চিহ্ন না পড়ে। আবার মুখ এবং লজ্জাস্থানে কোনোভাবেই প্রহার করা যাবে না।

> ৪র্থ স্টেপ : উভয় পক্ষের সালিশ বসানো

উল্লিখিত দুইটা উপায়ে গ্রহণ করার পরও যদি কোনো কাজ না হয় কিন্তু ইসলামের নির্দেশনা হলো- উভয় পক্ষ থেকে এক বা একাধিক সালিসের সাহায্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা। সৃষ্টিকর্তা তাআলা বলেন-

‘যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে জামাইয়ের পরিজন হতে একজন তার সাথে স্ত্রীর ফেমেলি থেকে একজন সালিস নিয়োজিত করবে। তারা উভয়ে মীমাংসা চাইলে খোদা সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৫)

সুতরাং উত্তেজিত বা আক্রোশবশত কোনোভাবেই স্ত্রীর প্রতি অমানবিক আচরণ বা অবিচার করা যাবে না। কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা মোতাবেক আচরণেই স্ত্রীরা অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসতে বাধ্য। আর তাতে দাম্পত্য জীবন হয়ে ওঠবে বিলাসিতা ও শান্তিময়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অবাধ্য স্ত্রীদের সঙ্গে সুন্দর-সুসম্পর্ক বজায় রেখে সন্তুষ্ঠজনক জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। কুরআনের দিকনির্দেশনা মোতাবেক স্ত্রীর সাথে স্বামীদের অসাধারণ আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.