Header Ads

Header ADS

স্বামী অক্ষম হলে স্ত্রীর কি করনীয় ?

স্বামী  অক্ষম হলে স্ত্রীর কি করনীয় ?

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি। স্বামী যৌন মিলনে অদক্ষ (দ্রুত বীর্যপাত) হলে, বিবি কী চাইলে স্বামী হতে আলাদা থাকতে পারবে বা স্বামী মিলনের জন্য ডাক দিলে সাড়া না দিতে। ইসলামে ত রয়েছে স্বামী ডাকলে বিবি সাড়া না দিলে তার ওপর সারারাত অভিশাপ আসে, তার সলাত স্বীকার হয় না। অধুনা একারণে কী স্ত্রীর গুনাহ হচ্ছে?উল্লেখ্য জামাইয়ের এ বিষয়ে কোন খেয়াল নেই। তিনি কেবল নিজে তৃপ্ত থেকে পারলেই হলো। তালাক ভাবা হইছে, তবুও তালাকও দিচ্ছে না। সম্প্রতি দুইটি সন্তানও আছে। ডিটেইলস পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করুন।জাজাকাল্লাহু খইর।–নাম প্রকাশে  অনিচ্ছুক। 

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. স্বামী স্ত্রীর চাহিদা পূর্ণ করাও সদাচারণের অন্তর্ভুক্ত। এটা পত্নী হিসেবে তার অধিকার। এই আধিপত্য পূর্ণ করা যোগ্য স্বামীর ওপর ওয়াজিব। কেননা, খোদা তাআলা বলেছেন,  وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ‘আর তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচারণ কর, (সূরা নিসা ১৯)

আল মাউসুয়া’তুল ফিকহিয়্যা (৩০/১২৭)-তে এসেছে,

 من حقّ الزّوجة على زوجها أن يقوم بإعفافها ، وذلك بأن يطأها ، وقد ذهب جمهور الفقهاء – الحنفيّة والمالكيّة والحنابلة – إلى أنّه يجب على الزّوج أن يطأ زوجته

‘স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে সেরা হল, স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমের মাধ্যমে তার পবিত্র জীবন যাপনের প্রতি যত্নশীল হবে। হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহর মতে স্ত্রীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া স্বামীর জন্য ওয়াজিব।’

সঙ্গম কত দিন পর হতে হবে–এব্যাপারে ফকিহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেন,

يجب على الرجل أن يطأ زوجته بالمعروف ، وهو من أوكد حقها عليه ، أعظم من إطعامها ، والوطء الواجب قيل : إنه واجب في كل أربعة أشهر مرة ، وقيل : بقدر حاجتها وقدرته ، كما يطعمها بقدر حاجتها وقدرته ، وهذا أصح القولين

‘স্ত্রীর সঙ্গে ক্লিয়ারভাবে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া ওয়াজিব। এটা স্ত্রীর জরুরি আধিপত্য তার সাথে ভরণপোষণের অন্যতম অংশ। কেউ কেউ বলেছেন, চার মাসে একবার ওয়াজিব। কারো কারো মতে এক্ষেত্রে ভরণপোষণের অন্যান্য বিষয়ের মত স্ত্রীর দরকার ও স্বামীর সক্ষমতাই নিমিত্ত গ্রহণযোগ্য বিষয়। আর এটাই বিশুদ্ধ মত।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া ৩২/২৭১)

দুই. যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীর এই অধিকার আদায়ে অপটু হয় তার শারীরিক অথবা মানসিক বিপদের কারণে; এক্ষেত্রে উক্ত স্ত্রীর প্রতি আমাদের পরামর্শ হল এই যে,

১. উনি একজন ইমানদার বিবি হিসেবে নিজের জামাইয়ের এই অবস্থায় তার সঙ্গ দিবেন। তাকে যেকোনোভাবে চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যাবেন। জামাইকে সুস্থ করে তোলার বিষয়ে সচেষ্ট হবেন। তিনি যখন অসুস্থ; স্ত্রীকে তো একটু কষ্ট করার জন্য হবে, ধৈর্যের ইন্ট্রোডিউস দেওয়ার জন্য হবে। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنْ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرً

আরো জেনে রাখো, ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) হেল্প লাভ করা যায়। পরিশ্রমের পর আরাম আসে। দৃঢ় অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে। (ইমাম নববই-কৃত আলআরবাঈন-১৯)

২. আর যদি তার এই অনীহার রিজন হয়, স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ অনুভব না করা। তাহলে তার জন্য সাজসজ্জা করে, তার সঙ্গে ভালবাসাপূর্ণ নিত্যনতুন রোমান্টিক চালচলন করে বিবি তাকে নিজের প্রতি ইচ্ছুক করে তোলার চেষ্টা করতে পারেন। হতে পারে, স্রষ্টা তাআলা এর সাহায্যে স্ত্রীকে সাকসেস করবেন। যদি আল্লাহর রহমত সঙ্গী হয় তাহলে হতে পারে গিন্নী জামাইকে মানসিক কমফোর্ট দিলে স্বামীও স্ত্রীকে মানসিক শান্তি দিবেন, শারীরিক সুখও দিবেন। স্বামীর সামনে সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য শো কেবল বৈধই নয় বরং স্ত্রীর কর্তব্য। হাদিস শরিফে এসেছে,

مَا اسْتَفَادَ الْمُؤْمِنُ بَعْدَ تَقْوَى اللَّهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ زَوْجَةٍ صَالِحَةٍ، إِنْ أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ، وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ، وَإِنْ أَقْسَمَ عَلَيْهَا أَبَرَّتْهُ، وَإِنْ غَابَ عَنْهَا نَصَحَتْهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهِ

কোনো মুমিন মানুষ আল্লাহ্ভীতির পর অসাধারণ যা লাভ করে তা হচ্ছে পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার বাহ্যিক সাজসজ্জা ও চরিত্রের মাধুর্যতা) তাকে আনন্দিত করে এবং সে তাকে অঙ্গীকার করে কতিপয় বললে সে তা পূরণ করে। আর জামাইয়ের অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও সম্পদের হেফাযত করে। (সুনান ইবন মাজাহ ১৮৫৭)

৩. সর্বোপরি আল্লাহর নিকট হেল্প চাইতে হবে। সুতরাং গিন্নী দোয়া ও নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন। বিশেষ করে উনি কোরআনে বলা হয়েছে এ দোয়াটি করতে পারেন; ইনশা-আল্লাহ স্রষ্টা তাকে খুশি করবেন,

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের জীবনসঙ্গীর পক্ষ হতে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান দান করুন তার সাথে আমাদের সবাইকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ দান করুন।’ (সূরা ফুরকান ৭৪)

৪. উক্ত বিবি অধিকহারে ইস্তেগফার পড়বেন। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِب

যে মানুষ নিয়মিত ইস্তেগফার করবে খোদা তার সব  থেকে উত্তরণের রাস্তা বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন তার সাথে অকল্পনীয় উৎস হতে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন। (আবূদাউদ ১৫২০)

৫. ওলামায়ে কেরাম লিখেছেন, সৃষ্টিকর্তা তাআলার গুণবাচক নামসমূহের মধ্যে (اَلْوَدُوْدُ) ‘আল-ওয়াদুদু’ ( অর্থ-প্রকৃত বন্ধু) একটি। এ পবিত্র নামের আমলে স্বামী-স্ত্রীর রিলেশন স্বাভাবিক হয়ে যায়।

৬. কোনো কোনো আলেম বলেন, শুক্রবার অর্ধরাত অতিবাহিত হবার পর অজু করে নিম্নোক্ত দুআটি তিনবার পাঠ করলে স্বামীর ভালবাসা পুনরায় সৃষ্টি হয়।

فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

৭. আবু সাঈদ রাযি.থেকে বর্ণিত, জিবরীল আ. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? উনি বললেন, হ্যাঁ। উনি (জিবরীল) বললেন,

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

অর্থাৎ, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি, সে সব জিনিস থেকে, যা আপনাকে যন্ত্রণা দেয়, সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের কর্কশ নজর থেকে স্রষ্টা আপনাকে শিফা দিন; আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি।  (মুসলিম ৫৫১২)

সুতরাং দোয়াটি পড়ে স্বামীকেকে বার বার ফুঁ দিন। ইনশা-আল্লাহ, আল্লাহ তাআলা তাকে আস্তে ধীরে সুস্থ করে দিবেন।

তিন. আর যদি  পত্নী মনে করেন যে, তিনি অধিক সবর করেছেন। আর পারছেন না বা পারবেন না। অথবা যদি তার নিজের স্বামীর বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরাশ হন তাহলে জামাইয়ের উচিত, অসাধারণ পদ্ধতিতে তালাকের মাধ্যমে স্ত্রীকে মুক্ত করে দেয়া। যদি তিনি তা না করেন তাহলে ইসলাম স্ত্রীকে এই কর্তৃত্ব দিয়েছে যে, তিনি তার নিকট তালাকের দাবী করতে পারেন। তখন এ দাবী করাটা স্ত্রীর জন্য অন্যায় হবে না। আর সেই সময় গৃহসম্বন্ধীয় বা সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে তার কাছ থেকে তালাক নেয়ার আয়োজন করার জন্য হবে। পক্ষান্তরে টাকার বিনিময়ে তথা খোলা করে তালাক সমাপ্ত করে নিতে হবে। খোদা তাআলা বলেন,

إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

সুতরাং তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা কায়েম রাখতে পারবে না তাহলে গৃহিণী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে তাতে কোন প্রবলেম নেই। এটা আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং তোমরা তা ভায়োলেট করো না। আর যে আল্লাহর সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘন করে, বস্তুত তারাই জালিম। (সূরা বাকারা ২২৯)

আমরা দোয়া করি, স্রষ্টা যেন তাদের জীবনকে চমৎকার করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমতাবান।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন

শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী








কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.